স্টাফ রিপোর্টার, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
পৌষের মধ্য ভাগে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের উপজেলা গুলোতে শীতের দাপট বেড়েছে কয়েক গুন। এতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জবুথবু অবস্থা। গত শনিবার থেকে সূর্য মেঘের কোলে মুখ ঢেকে রেখেছে। এতে তাপমাত্রা সর্বনিম্ম ১০ ডিগ্রি থেকে সর্ব্বোচ্চ ২০ ডিগ্রিতে উঠা নামা করছে। এছাড়াও বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। ফলে হাড় কাপানো শীত জেঁকে বসেছে।
বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না। শীতের প্রকোপ বাড়ার কারণে দিনমুজুর শ্রেণীর মানুষ ঠিকমত কাজে যেতে না পাড়লেও ফসল বাঁচাতে কৃষক ভুট্টা, আলু, গম ও সরিষা ক্ষেতে সার, ছত্রাক নাশক, বিষ প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে তাদের নিদারুন কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করলেও ঠান্ডা বাতাশ বইতে থাকায় শীতের তীব্রতা গরীব ও দুস্থ মানুষকে কাবু করে ফেলেছে। ভেলাতৈড় গ্রামের দিনমুজুর নবিরউদ্দীন জানান, শীতে কষ্ট সত্বেও পেটের দায়ে কাজে যেতে হচ্ছে। এদিকে বাজারে শীত বস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরাতন কাপড়ের দোকানে গরীব ও সাধারণ মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুযোগ বুঝে পুরাতন কাপড়ের ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি সাধারণ পুরাতন সুইটার ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধদের সর্দি, কাশি, হাপানি রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জানান, প্রতিদিন হাসপাতালের ইনডোরে ৮/১০ জন শ্বাসকষ্টের রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়াও আউটডোরে ৪০/৫০ জন সর্দি, কাশি, শ^াস কষ্ট জনিত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আড়াই হাজার কম্বল এবং আলহাজ্ব মোবারক আলী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ১১শ কম্বল দুস্থ ও শীতার্থদের মাঝে বিতরণ করেছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম জানান, ৬ হাজার কম্বলের চাহিদার বিপরীতে ২ হাজার ৭৮৫ টি কম্বল পাওয়া গেছে। যা ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে শীতবস্ত্র কেনা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছবীর হোসেন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষনা হওয়ায় সকল ব্যয় সীমিত করা হয়েছে। ফলে পরিষদ থেকে কম্বল কেনার এবার সম্ভব হবে না।
এ অঞ্চলের শীত কবলিত গরীব ও অসহায় মানুষকে রক্ষার জন্য জরুরী ভিত্তিতে শীতবস্ত্র সহায়তা প্রয়োজন বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন।